অনেক সময়ই মনে হয় সামনের ব্যক্তিটি মিথ্যে বলছেন না সত্যি তা
যদি জানা যেতো তাহলে অনেক ভালো হতো। অন্তত বোঝা যেতো তিনি কী ধরণের মানুষ। সত্যি
বলতে কি, মিথ্যাবাদী কিন্তু বেশ সহজেই ধরে ফেলা যায়। বিহেভিওরাল এনালিস্ট
এবং বডি ল্যাংগুয়েজ এক্সপার্ট ডঃ লিলিয়ান গ্লাস যিনি এফবিআই এর সাথে সংকেতের
মাধ্যমে মিথ্যাবাদী ধরার মতো কাজ করছেন, তার মতে মিথ্যা
বলার সময় মিথ্যেবাদীর মধ্যে কিছু পরিবর্তন আসে যেমন মুখভঙ্গি বডি ল্যাংগুয়েজ, কথা বলার ধরণ
ইত্যাদি। এই জিনিসগুলো ভালো করে লক্ষ্য করতে পারলেই খুব সহজে ধরে ফেলা যায় কে
মিথ্যে বলছেন, কে বলছেন না। তিনি তার বই ‘দ্য বডি ল্যাংগুয়েজ অফ লায়ারস’এ এই
মিথ্যেবাদীর মধ্যকার পরিবর্তন সম্পর্কে লিখেছেন।
ছোটবেলা থেকেই নাকি গড়ে ওঠে মিথ্যা বলার অভ্যাস। এটি মনোবিদদের
বিশ্লেষণ। ছোট বাচ্চারা অনেক সময়ই দুষ্টুমি লুকানোর জন্যে মিথ্যা কথা বলে। বড়রা তা
সংশোধন করে না দিলে এই অভ্যাস
থেকেই যায়।
কী করে বুঝবেন যে মিথ্যে বলছে আপনার চারপাশের কোনও মানুষ?
কী করে বুঝবেন যে মিথ্যে বলছে আপনার চারপাশের কোনও মানুষ?
আসুন জেনে নেই মনোবিদদের গবেষণায় আসা মিথ্যাবাদী চেনার উপায় গুলো:
১. যাঁর সঙ্গে কথা বলছেন তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করুন। তিনি যদি চোখ সরিয়ে নেন বা নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তাহলে বুঝবেন তিনি মিথ্যে বলছেন। এটা একটা মিথ্যা বলার লক্ষণ।
২. যাঁর সঙ্গে কথা বলছেন তাঁর কথা বলার ধরনের দিকে খেয়াল করুন। যদি তিনি সাধারণভাবে কথা বলে যান কোনও বিরতি ছাড়া এবং মাঝে মাঝে 'আম, উম' এই ধরনের শব্দ করেন, তাহলে সেটাও একটা মিথ্যা বলার লক্ষণ।
৩. মিথ্যা বলার সময় মানুষ হাত গুটাতে পারে অথবা পায়ে ঘষা দিয়ে হাঁটতে পারে অথবা অস্বস্তি অনুভব করতে পারে। এটার কারণ সে নার্ভাস এবং তার সাধারন আচার-ব্যবহার পরিবর্তন করতে চাইছে।
৪. মুখের ভাবের পরিবর্তন মিথ্যা বলার আরেকটি লক্ষণ। লক্ষ্য করুন, মিথ্যা বলার সময়ে ব্যক্তিটির চোখের ভুরু উপরের দিকে উঠছে কিনা! স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ভুরু নড়াচড়া করবে বেশি অথবা তিনি হাসবেন এমন একটা সময়ে যখন হাসার কোনও কারণ নেই।
৫. একইভাবে মিথ্যা বলার সময় মানুষের শারীরিক নড়াচড়া বেড়ে যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া, হার্ট বিট বেড়ে যাওয়া, নাড়ির স্পন্দন বেড়ে যাওয়া মিথ্যা বলার লক্ষণ।
এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের গবেষকরা মিথ্যাবাদী শনাক্ত করার এক অভিনব উপায় বের করেছেন। তাদের তৈরি "টাইমড অ্যান্টাগেনেস্টিক রেসপন্স অ্যালথিওমিটারে"র মাধ্যমে দেখা গেছে মিথ্যা উত্তর দিতে সত্যের চেয়ে গড়পড়তায় ৩০ শতাংশ বেশি সময় লাগে। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সিরিজ প্রশ্নের জবাব দিতে হয় কম্পিউটারে টাইপ করে। যারা সত্যি উত্তর দিয়েছে তাদের প্রতিটি উত্তরের জন্য সময় লেগেছে ১ দশমিক ২ সেকেন্ড আর মিথ্যা উত্তরদাতাদের লেগেছে ১দশমিক ৮ সেকেন্ড।
ধরুণ আপনার কোন বন্ধু কথায় কথায় মিথ্যা বলে বা বানিয়ে বানিয়ে কথা বলার প্রবণতা রয়েছে।এই অভ্যাসটি দূর করাতে হলে গল্পের মাধ্যমে তার সামনে তুলে ধরুণ পরিস্থিতি। দেখুন তিনি নিজের প্রবলেমটি বুঝতে পারছে কি না! এমন ইম্পালসিভ লায়ার-রা অনেক সময়ই না-বুঝেই বলে থাকে মিথ্যে কথা। এটির কারণে অন্যদের কাছে মিথ্যাবাদী প্রবণ মানুষটির জনপ্রিয়তা দিনে দিনে হ্রাস পেতে থাকে।
মিথ্যা কথা বলা নিয়ে আমাদের দেশে
কখনও কোন গবেষণা হয়েছে কিনা,আমার জানা নেই। দেশের কত ভাগ মানুষ মিথ্যা
কথা বলে বা কোন পেশার মানুষের মধ্যে মিথ্যা কথা বলার প্রবণতা বেশি, তা নিয়েও হয়তো কোন
পরিসংখ্যান বের হয়নি। তবে পেশাগত প্রয়োজনে আইনজীবীরা যে মিথ্যার
আশ্রয় নেন, তা
সর্বজন স্বীকৃত। এর বাইরে মিথ্যা বলা বা মিথ্যা আশ্বাস দেয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি
পরিলক্ষিত হয় রাজনীতিকদের ভেতর। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে ঘায়েল করতে জনগণকে
মিথ্যা বলার প্রতিযোগিতায় নামেন তাঁরা। এক ধরণের ধ্রুম্যজাল তৈরি করে দেশের
জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে বেশ পারদর্শী আমাদের শীর্ষ রাজনীতিকরা।
অপরদিকে দেশের একশ্রেনীর মিডিয়াকর্মীদের ভেতরেও রয়েছে মিথ্যা বলার অভ্যাস।
ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজের গুণগান গাওয়া বা রঙ চড়িয়ে সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ
ঘটিয়ে বিভ্রান্তকর কিছু ছড়িয়ে দিতে কেউ কারোর চেয়ে কম যাচ্ছেন না এখন।
সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই যেন এখন পরষ্পর দোষারোপ করতে নিচ্ছে মিথ্যার আশ্রয়।
অথচ প্রতিটি ধর্মেই বলা আছে সদা সত্য কথা বলতে। কিন্তু আমরা কেউই সেটি অনুসরণও
করিনা।
*****মিথ্যা কথা বলার ব্যাপারটা অনেকটাই মানসিক। আর যে কোনও মানসিক
সমস্যা দূর করতে হলে আগে অন্য মানুষটির প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হয়। আসুন আমরা
মিথ্যা বলা পরিহার করি। মিথ্যা বলার অভ্যাস ছাড়াতে অপরকে সহায়তা করুণ
HOME
0 comments :
Your feedback is always appreciated. We will try to reply to your queries as soon as time allows.
Note:
1. Make sure to click the "Subscribe By Email" link below the comment to be notified of follow up comments and replies.
2. Please "Do Not Spam" - Spam comments will be deleted immediately upon our review.
3. Please "Do Not Add Links" to the body of your comment as they will not be published.
4. Only "English" comments shall be approved.
5. If you have a problem check first the comments, maybe you will find the solution there.
Post a Comment